প্রথম চাকরিঃ উচ্ছ্বাস নাকি উদ্বেগ?
বীথি ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেছে। স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায়ই তার ফটোগ্রাফির ভীষণ শখ ছিলো। মনের তাগিদ থেকেই চাকরি নিলো এক উন্নয়ন সংস্থাতে; সেখানে টুকটাক ফটোগ্রাফির কাজ করবে সেই আশায়। কিন্তু কিছুদিন যেতেই তার আশার গুড়ে বালি পড়ার দশা হলো। তার শখের ফটোগ্রাফির দুনিয়ার থেকে এই দুনিয়াতো ভীষণভাবে আলাদা! এখানে মনের সেই তাড়না কোথায়? এখন তার উদ্বেগভরা প্রশ্ন, “আমার ফটোগ্রাফির দুনিয়ার চেয়ে এই দুনিয়া আলাদা। এই নূতন দুনিয়াতে আমার ক্যারিয়ারের ভবিষ্যতই বা কী?”
একক পরিবারের নতুন প্যাটার্ন – পারিবারিক বন্ধন নষ্ট করছে কি?
একক আর যৌথ পরিবারের সংজ্ঞা আমরা সবাই জানি। স্বামী, স্ত্রী, সন্তান নিয়ে হয় একক পরিবার। কিন্তু ইদানীংকালে একক পরিবারের নতুন এক ধরন দেখা যাচ্ছে যেখানে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই বাইরে কাজ করেন। দু’জনেই একই সময়ে ঘর থেকে বের হন, কাছাকাছি সময়ে ঘরে ফেরেন, এবং ঘরে ফিরে নিজেদের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এই ধরনের একক পরিবারে ঘরের কাজটুকু মূলতঃ স্বামী-স্ত্রী মিলেমিশে করে থাকেন। যেমনঃ স্ত্রী হয়তো রান্না করতে চলে গেলো, স্বামী ঘরদোর পরিষ্কার করলো; স্ত্রী থালা-বাসন ধুয়ে রাখলো, স্বামী কাপড়-চোপড় ধুয়ে দিলো। এমতাবস্থায় স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে দেবার মতোই সময় পান না। সপ্তাহশেষে পুরোটা সময় ঘরে থাকা বা বাইরে বেড়াতে যাওয়ার মধ্যে দিয়েই পরস্পর পরস্পরকে সনয় দিয়ে থাকেন। পারিবারিক বন্ধনে এই ধরনের একক পরিবার কি কোনো ধরনের সংকট তৈরি করছে?
একক মায়ের পরিবার– নারীর জন্যে এক সামাজিক সংকট
বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক (extra-marital affairs), বিয়ে বহির্ভূত বসবাস (live together), নারীর বহুবিবাহ, একক মায়ের পরিবার (single mother, উন্নত দেশগুলোতে এর প্রত্যয়ন ভিন্ন হলেও আমাদের দেশে এর মানে হলো বাবাবিহীন পরিবার) ইত্যাদি আমাদের সমাজ-সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে অপ্রচলিত, অস্বাভাবিক হলেও বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন কথা বলে। বিয়ে বহির্ভূত বসবাসকে যেমন নিন্দার চোখে দেখা হয়, বৈধভাবে নিজ সন্তান নিয়ে কোনো নারীর একা থাকাটাও তেমনই নানা সমস্যাকে মোকাবিলার বিষয়। একক মা কী ধরনের সামাজিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন চলুন জেনে নেয়া যাক, এটি আমাদের সমাজেরই একটি বাস্তবতা। চাইলেই আমরা একে এতো সহজে অবহেলা করতে পারি না।
পারিবারিক নির্যাতন – আলোচনার কোনো বিষয় নয়!
সাম্প্রতিক এক পাশবিক নির্যাতনের ঘটনার প্রেক্ষিতেই আজকের এই লেখার অবতারণা। ভুক্তভোগীটির বাবার জবানে তিনি অনেক স্থির এবং ধৈর্য্যশীল ছিলেন, কোনোদিন এইসব নির্যাতনের ব্যাপারে পরিবারের কাউকে কিছু জানান নি। তিনি নিশ্চয়ই ‘ভালো’/‘আদর্শ’ মেয়ে বলে পরিচিত ছিলেন, আজ নিঃসন্দেহে তিনি এই ‘ভালো’ পরিচিতির জন্যেই আফসোস করছেন। দশ বছর নির্যাতন সহ্য করবার পর নারী বলছেন, “ভুল হয়ে গেছে, আগে বুঝতে পারি নি”। “সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সহ্য করেছি”। নারীকে আর কতোকাল আপোষকারীর ভূমিকায় থাকতে হবে? সমাজ, সংসার, সন্তানের দোহাই দিয়ে কতোকাল আর নির্যাতন মুখ বুঁজে সইতে হবে?


